উস্কানিমূলক মন্তব্যের জন্য এ বার বিজেপি নেতা কপিল মিশ্র-সহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দিল দিল্লি হাইকোর্ট।

26th February 2020 ভারত
উস্কানিমূলক মন্তব্যের জন্য এ বার বিজেপি নেতা কপিল মিশ্র-সহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দিল দিল্লি হাইকোর্ট।


উস্কানিমূলক মন্তব্যের জন্য এ বার বিজেপি নেতা কপিল মিশ্র-সহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দিল দিল্লি হাইকোর্ট। আদালত জানিয়েছে, উস্কানিমূলক মন্তব্যের ক্ষেত্রে এফআইআর দায়ের করার ক্ষেত্রে কোনওরকম দেরি করা চলবে না। এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে বৃহস্পতিবারের মধ্যে আদালতকে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে দিল্লি পুলিশকে।
গত চারদিন ধরে বিক্ষোভের আগুনে জ্বলছে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা। ব্যাপক ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে সেখানে। এই হিংসাত্মক কর্মকাণ্ড যাঁরা ঘটিয়েছেন এবং যাঁরা তাতে ইন্ধন জুগিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের আর্জি নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে আদালতে আবেদন জানিয়েছিলেন মানবাধিকার কর্মী হর্ষ মান্দার। বিষয়টি নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের আর্জি জানিয়েছিলেন তিনি।

এ দিন তার শুনানিতেই দিল্লি পুলিশকে তিরস্কার করে বিচারপতি এস মুরলীধর এবং বিচারপতি তলবন্ত সিংহের ডিভিশন বেঞ্চ। বিচারপতি মুরলীধর বলেন, ‘‘সরকারি সম্পত্তি নয়ছয় এবং অগ্নিসংযোগ নিয়ে এফআইআর দায়ের করতে উদগ্রীব আপনারা। অথচ উস্কানিমূলক মন্তব্যের জন্য এফআইআর দায়ের করছেন না কেন? নাকি এর মধ্যে কোনও অপরাধ আছে বলে মনে করেন না আপনারা?’’
এই ধরনের কোনও ঘটনার কথা তাঁরা জানেন না বলে এ দিন দিল্লি পুলিশের হয়ে আদালতে দাবি করেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। তাতে আরও চটে যান বিচারপতি মুরলীধর। সঙ্গে সঙ্গে আদালত কক্ষে কপিল মিশ্রর বিতর্কিত মন্তব্যের ভিডিয়ো চালাতে নির্দেশ দেন তিনি, যেখানে জাফরাবাদে গিয়ে হুমকি দিতে দেখা যায় তাঁকে। দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের আগে সিএএ বিরোধী বিক্ষোভ নিয়ে প্রকাশ্যে উস্কানিমূলক মন্তব্য করতে দেখা গিয়েছিল বিজেপির অনুরাগ ঠাকুর এবং প্রবেশ বর্মাকেও। তাঁদের সেই মন্তব্যের ভিডিয়োও চালানো হয় আদালত কক্ষে।

এর পর ফের এক বার দিল্লি পুলিশকে তিরস্কার করেন বিচারপতি মুরলীধর। তিনি বলেন, ‘‘এফআইআর দায়ের করুন আপনারা। অগ্নিসংযোগ নিয়ে তো এফআইআর করতে মুখিয়ে ছিলেন আপনারা। উস্কানিমূলক মন্তব্যের বেলায় সেই উদ্যোগ কোথায় গেল? আপনারা যত দেরি করবেন, সমস্যা ততই বাড়বে। গোটা শহর জ্বলছে। এফআইআর দায়ের না হলে সমাজের কাছেও ভুল বার্তা পৌঁছবে।’’

তবে এর প্রেক্ষিতে পাল্টা যুক্তি দেন তুষার মেহতা। আদালতে তিনি জানান, ‘‘সব পক্ষেরই এমন নানা ভিডিয়ো রয়েছে। সে সব সামনে এলে পরিস্থিতি আরও তেতে উঠবে। কিন্তু বেছে বেছে এই তিনটি ভিডিয়োই আদালতে তুলে ধরেছেন আবেদনকারী।’’ বেছে বেছে ওই তিনটি ভিডিয়ো সামনে এনে আবেদনকারী দিল্লি পুলিশের মনোবল ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

কিন্তু তাতে আরও চটে যান বিচারপতি মুরলীধর। তিনি বলেন, ‘‘এতে তো ছবিটা আরও ভয়ঙ্কর দেখাচ্ছে। হাতের কাছে এত উস্কানিমূলক ভিডিয়ো থাকতেও কীসের জন্য অপেক্ষা করছেন আপনারা? কেন এফআইআর দায়ের করছেন না? পুলিশ কমিশনারের কাছে সমস্ত ভিডিয়ো জমা দিন। তার পর ভাবনা চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিতে দিন ওঁকে। বৃহস্পতিবার এ নিয়ে ফের শুনানি হবে বলে জানান তিনি।

এর আগে, আর একটি আবেদনের শুনানিকে কেন্দ্রীয় সরকারকেও কড়া বার্তা দেয় আদালত। বিচারপতি মুরলীধর বলেন, ‘‘সাংবিধানিক পদাধিকারীরা জেড প্লাস ক্যাটেগরির নিরাপত্তা পান। কিন্তু সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কে দেখবে। সময় এসেছে, তাঁদের কাছে পৌঁছনোর। প্রত্যেকেরই যে সেই নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার রয়েছে, তা বোঝানোর সময় এসেছে।’’





Others News

মোদীর কৃষি আইন আজ বাতিলের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট

মোদীর কৃষি আইন আজ বাতিলের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট


 News; প্রায় দু’‌ মাস ধরে ধরে দিল্লি সীমান্তে অবস্থান বিক্ষোভ করছেন কৃষকরা। দাবি, নতুন তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহার করতে হবে। ইতিমধ্যে অন্তত ৪৫ জন কৃষক মারা গেছেন। হয় আত্মহত্যা করেছেন, নয়তো ঠান্ডায়। পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপের দিকে। এই অবস্থায় কৃষকদের পাশে দাঁড়াল সুপ্রিম কোর্ট। কেন্দ্রকে ধমক দিয়ে বলল, ‘‌হয় আপনারা কৃষি আইন স্থগিত রাখুন, নয়তো আমরা করছি। এখানে ইগোর কী রয়েছে?‌’‌
কৃষি আইন প্রত্যাহার করতে চেয়ে উচ্চ আদালতে পিটিশন দায়ের করেছিলেন আন্দোলনকারী কৃষকরা। 
• সেই শুনানিতেই এদিন প্রধান বিচারপতি এসএ বোবদে বললেন, ‘‌খারাপ কিছু ঘটলে তার জন্য দায়ী হব আমরা প্রত্যেকে। আমাদের হাতে কোনও ক্ষত বা রক্ত চাই না।’‌ 
• সুপ্রিম কোর্টে এও বলল, যে কৃষি আইন স্থগিত রাখার পরেও আন্দোলন চলতে পারে। কেন্দ্র সরকারকেই স্থির করতে হবে, যে বর্তমান বিক্ষোভস্থলেই সেটা চলবে, নাকি অন্য কোথাও সরানো হবে। 
• দিল্লি সীমান্তে ২৬ নভেম্বর থেকে অবস্থান করছেন বহু মহিলা এবং বৃদ্ধ। শীর্ষ আদালতের ক্ষোভ, ‘‌পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে। কৃষকরা আত্মহত্যা করছেন। এই ঠান্ডায় বৃদ্ধ আর মহিলারা কেন অবস্থানে বাধ্য হচ্ছেন?‌’‌
• ‘‌আদালত কৃষি আইন কার্যকর স্থগিত না করলে, আমরাই করব।’‌ কেন্দ্রকে কমিটি গড়ারও নির্দেশ দিয়েছে।
• অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে বেণুগোপালের পাল্টা যুক্তি, কোনও আইন কেন অসাংবিধানিক, আদালত তা না জানিয়ে আইন স্থগিত করতে পারে না। দুই বা তিনটি রাজ্যের কৃষকরা এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন, গোটা দেশ নয়। 


blanck