ফের মমতাকে চাই, অভিনব প্রচারে নামছেন ১ লাখ কর্মী

1st March 2020 পশ্চিমবঙ্গ
ফের মমতাকে চাই, অভিনব প্রচারে নামছেন ১ লাখ কর্মী


‘দিদিকে বলো’র অভূতপূর্ব সাড়ায় বিধানসভা ভোটকে পাখির চোখ করে ফের নতুন আঙ্গিকে রাজ্যব্যাপী প্রচারে নামছে ‘টিম তৃণমূল’। আগামীকাল, সোমবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম থেকে এই কর্মসূচি ঘোষিত হবে। এই প্রচারেরও কেন্দ্র, প্রধান মুখ সবটাই নিঃসন্দেহে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফারাক একটাই, ‘দিদিকে বলো’ প্রচারের উদ্দেশ্য ছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাংলার মানুষের ত্রাতা, দরদী প্রশাসক ও দরদী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তুলে ধরা। আর আসন্ন প্রচারটির উদ্দেশ্য হবে, কেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতাকেই ফের ভোট দিয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় আনা জরুরি—তা সুপ্রতিষ্ঠিত করা। এই নতুন প্রচারাভিযানে দল নামছে বলে কি ‘দিদিকে বলো’র মতো সুপারহিট প্রচার বন্ধ হবে? দলীয় সূত্রে উত্তর মিলেছে, একেবারেই নয়। বরং আগের মতোই বিপদে পড়া রাজ্যবাসীর সহায় হিসেবে সমান তেজে তা চলবে।
‘ভোট গুরু’ পিকে’র টিম এবং তৃণমূল সূত্রের খবর, দলের প্রথম সারির মন্ত্রী থেকে শুরু করে বুথ পর্যায়ের কর্মী, সমস্ত স্তরের রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরাই শামিল হবেন আসন্ন প্রচারে। প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত থাকবেন এক লক্ষ তৃণমূল কর্মী ও নেতা। লক্ষ্য হবে, আগামী à§­à§« দিনের মধ্যে রাজ্যের সিংহভাগ মানুষের কাছে দলের রাজনৈতিক আদর্শের বার্তা পৌঁছে দেওয়া। সাংগঠনিকভাবে তৃণমূল দুর্বল, এই সমালোচনার যোগ্য জবাব দেওয়া। ভোটের আগে একটি সু-সঙ্ঘবদ্ধ রাজনৈতিক দল ও বাহিনী হিসেবে নিজেদের তৈরি করে নেওয়া।
‘দিদিকে বলো’র সহজ ও মন ছুঁয়ে যাওয়া প্রচারবার্তা এখন মানুষের মুখে মুখে। তাহলে সোমবার ঘোষণা হতে চলা প্রচারের ‘ট্যাগলাইন’ কী হবে? ‘হয় মমতা, নয় মমতা’, ‘আমাদের গর্ব মমতা’, নাকি ‘ফের মমতা’? নাকি এর কোনওটাই নয়, অন্য কিছু? উত্তরে ‘ভোটগুরু’র টিমের এক সদস্য জানান, আর তো মাত্র ৪৮ ঘণ্টার অপেক্ষা। একটু সবুর করেই দেখুন না! তাঁর দাবি, এত বড় ও ব্যাপক রাজনৈতিক প্রচার পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে হবে এই প্রথম।
তৃণমূল সূত্রের খবর, দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে বিরোধীদের সিন্ডিকেট, কাটমানি প্রভৃতি ইস্যুকে প্রশমিত করতেও ‘দিদিকে বলো’ প্রচারাভিযান যথেষ্ট কার্যকর হয়েছে। মানুষ এটুকু বুঝেছেন— পাশে আর কেউ না থাক, দিদি তো আছেন! তাই টোল ফ্রি নম্বরে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পানীয় জল, রাস্তা, আইনকানুন সহ নানা সমস্যার হাজার হাজার ফোনে গিয়েছে।
দলের এক শীর্ষ সূত্র জানিয়েছে, উন্নয়নমূলক কাজ করা এবং সেইসব কাজ নিয়ে বাড়ি বাড়ি যাওয়া, দুটিই সমান গুরুত্বপূর্ণ যে কোনও রাজনৈতিক দলের কাছে। মাঠে-ময়দানে নেমে মানুষকে উন্নয়নের গুরুত্ব বোঝানো, তাঁদের জীবনে পরিবর্তন আনতে সেইসব কর্মসূচির ভূমিকা কতটা, তা উপলব্ধি করানোও সমান জরুরি। শুধুমাত্র ভালো কাজ বা কেবলমাত্র ভালো প্রচারে আজকের দিনে মানুষের মন পাওয়া মুশকিল। তৃণমূলের ভোট পর্যবেক্ষকদের মতে, এর উদাহরণ ভালো কাজ করা সত্ত্বেও লোকসভা ভোটে পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তরবঙ্গের ১৮টি আসনে বিজেপি’র কাছে হার।
তৃণমূলের পোড়খাওয়া নেতৃত্ব জানিয়েছে, দিল্লির ঘটনা ও সাম্প্রতিক কিছু ‘জনবিরোধী’ সিদ্ধান্তের জন্য প্রতিপক্ষ হিসেবে বিজেপিকে খাটো করে দেখা চরম ভুল হবে। দলে মোদি-শাহের মতো প্রবল পরাক্রমী জুটি রয়েছে। সাংগঠনিক দিক থেকেও বিজেপি যথেষ্ট মজবুত দল। রাজনৈতিক লড়াইয়ে তারা যথেষ্ট শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। ৪০ শতাংশ ভোটও পেয়েছে। ফলে গোল দেওয়ার জন্য ফাঁকা মাঠ উপহার দেবে না তারা। আর এ ধরনের দলের সঙ্গে মুখোমুখি লড়াইয়ে নামতে গেলে আগে নিজেদের সংগঠনের জমি শক্ত করা জরুরি। না হলে হাঁ হয়ে বেরিয়ে পড়বে ছোটখাট ক্ষতগুলিও। তাই, তৃণমূলের আসন্ন প্রচারাভিযান হতে চলেছে ২১’র লড়াইয়ের আগে সাংগঠনিক জমি মজবুত করার গুরুত্বপূর্ণ মহড়া।





Others News

আবার আসছে ঝড় জাওয়াদ

আবার আসছে ঝড় জাওয়াদ


News: জাওয়াদ আসার আগেই পূর্বাভাস অনুযায়ী কলকাতায় বাড়ল দিন ও রাতের তাপমাত্রা। বৃহস্পতিবার দিনের তাপমাত্রা ছিল ২৯.à§­ ডিগ্রি যা স্বাভাবিকের তুলনায় ২ ডিগ্রি বেশী। বৃহস্পতিবার রাতের তাপমাত্রা ছিল à§§à§®.à§§ ডিগ্রি। স্বাভাবিকের থেকে ২ ডিগ্রি বেশী। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে  হয়েছে ৯৪ শতাংশ। 

জাওয়াদের প্রভাবে শুক্রবার উপকূলের দুই জেলা পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিকেলের পর সমুদ্রে উঁচু ঢেউ থাকবে এবং উপকূল এলাকায় ঘন্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে হাওয়া বইবে। 

ধেয়ে আসছে ‘জাওয়াদ’। আগামী শনিবার উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ এবং ওড়িশা উপকূলের মাঝামাঝি কোনও জায়গায় আছড়ে পড়তে পারে এই ঘূর্ণিঝড়। তার জেরে বাংলার উপকূলবর্তী জেলাগুলিতেও ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা। এমন পরিস্থিতিতে রাজ্যের উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি ইতিমধ্যেই যাঁরা মাছ ধরার জন্য সমুদ্রে গিয়েছেন তাঁদেরও ফিরতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে কৃষকদেরও ধান কেটে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।


blanck