দিল্লিতে পরিকল্পিত গণহত্যা: মমতা

3rd March 2020 পশ্চিমবঙ্গ
 দিল্লিতে পরিকল্পিত গণহত্যা: মমতা


দিল্লির ঘটনা নিয়ে এবার সরাসরি কেন্দ্রের মোদি সরকারকেই কাঠগড়ায় তুললেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে দলীয় সভায় তাঁর দাবি, দিল্লিতে পরিকল্পিত গণহত্যা হয়েছে। গুজরাত দাঙ্গার সঙ্গে তুলনা টেনে বস্তুত নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহ জুটিকেই বিঁধেছেন মমতা। কেন্দ্রশাসিত দিল্লির পাশাপাশি বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলির আইনশৃঙ্খলা নিয়েও তোপ দেগেছেন মুখ্যমন্ত্রী। আগের দিন কলকাতায় শহিদ মিনারে অমিত শাহের বাংলা দখলের ডাককে কটাক্ষে বিঁধেছেন তিনি। বুঝিয়ে দিয়েছেন নাগরিকত্ব বিতর্কের পটভূমিতে বিজেপি বিরোধিতায় সংবিধানই তাঁর হাতিয়ার। যার সুবাদে শিকড় বাংলায় থাকলেও তাঁর লড়াইয়ের একটি সর্বভারতীয় প্রেক্ষিতের বার্তা মুখ্যমন্ত্রী দিলেন বলেই রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা।
দিল্লির ঘটনা নিয়ে গোটা দেশ তোলপাড়। কেন্দ্রশাসিত দিল্লিতে পুলিস প্রশাসন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের হাতে। স্বাভাবিক কারণেই অমিত শাহকেই প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে বিরোধীরা। এদিন তা আরও স্পষ্ট করে দিলেন মমতা। কঠোর ভাষায় আক্রমণ শানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা মোদি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারকে। দিল্লি প্রসঙ্গে তাঁর দ্ব্যর্থহীন দাবি, এটা পরিকল্পিত গণহত্যা। কেন তা বলছি? পুলিস দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখেছে। তার পরেই তিনি বলেন, দিল্লি তো একটা মিউনিসিপালিটির মতো। সেটাই সামলাতে পারে না, আবার দেশ সামলাবে। রবিবারের সভায় শাহ দিল্লি নিয়ে একটি শব্দ ব্যয় করেননি। উল্টে বাংলায় দুই-তৃতীয়াংশ আসনে বিজয়ের টার্গেট ঘোষণা করেছেন। সেই প্রসঙ্গে তাঁকে মমতার পাল্টা খোঁচা, আপনি বাংলা চালাবেন! তাঁর দাবি, নাগরিকত্ব দেওয়ার নামে বাংলার শরণার্থীদের অপমান করেছেন অমিত শাহ।
তবে শুধু বিজেপি নয়, দিল্লি নিয়ে কংগ্রেস ও বামেরা পথে নামলেও তাদের আচরণে সংশয় প্রকাশ করেছেন মমতা। তিনি বলেন, দিল্লিতে বাম ও কংগ্রেসের দপ্তর রয়েছে, তারা কিন্তু কোনও কথা বলেনি। বিজেপিকে সুবিধা করে দিতে এরাজ্যে তৃণমূলকে আক্রমণের নিশানা করেছে তারা। তিনি তৃণমূলের রাজ্যসভার ও লোকসভার দুই নেতা যথাক্রমে ডেরেক ও’ব্রায়ান এবং সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিল্লির দাঙ্গা পীড়িতদের জন্য ত্রাণ তহবিল তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, দাঙ্গা বিধ্বস্ত এলাকার কোনও মানুষ আশ্রয়হীন হলে তাকে রাজ্যে ঠাঁই দিতেও তিনি প্রস্তুত বলে ঘোষণা করেছেন মমতা। তাঁর আক্ষেপ, দিল্লি নিয়ে ক্ষমা চাওয়া উচিত। তা না করে যারা উস্কানিমূলক কথা বলেছে, সেইসব বিজেপি নেতাকে গ্রেপ্তার পর্যন্ত করতে পারল না! এটা লজ্জার ঘটনা। আবার বাংলায় এসে ঘৃণা ছড়াচ্ছে!
বিজেপি-শাসিত উত্তরপ্রদেশে মানুষকে পিটিয়ে মারলে পুলিসে অভিযোগ পর্যন্ত নেয় না। অসমে এনআরসির নামে আগুন জ্বালিয়েছে। ত্রিপুরাতে বিজেপির ভয়ে কেউ কথা বলতে পারে না। এহেন ‘স্বৈরাচারী’ শক্তিকে না সরানো পর্যন্ত আন্দোলন থামবে না বলে দলের কর্মীদের বলেন মমতা। আগামীকাল, বুধবার বিকেল তিনটে থেকে চারটে পর্যন্ত দিল্লির ঘটনার প্রতি ধিক্কার জানাতে ব্লকে ব্লকে মিছিল করতে বলেছেন নেত্রী।
নতুন নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) এবং দাঙ্গার ঘটনাকে জুড়ে প্রতিবাদ মিছিলের স্লোগানও ঠিক করে দিয়েছেন তিনি। বিজেপির শহিদ মিনারের সভার বাইরে মিছিলে দিল্লির ঢঙে ‘গুলি মারো ’স্লোগান উঠেছিল। অভিযোগ পেয়েই তড়িঘড়ি পুলিস তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। মমতার হুঁশিয়ারি— এটা বাংলা, দিল্লি নয়। দিল্লিতে গুজরাত মডেল প্রয়োগ করেছেন, এখানে করতে যাবেন না।





Others News

আবার আসছে ঝড় জাওয়াদ

আবার আসছে ঝড় জাওয়াদ


News: জাওয়াদ আসার আগেই পূর্বাভাস অনুযায়ী কলকাতায় বাড়ল দিন ও রাতের তাপমাত্রা। বৃহস্পতিবার দিনের তাপমাত্রা ছিল ২৯.à§­ ডিগ্রি যা স্বাভাবিকের তুলনায় ২ ডিগ্রি বেশী। বৃহস্পতিবার রাতের তাপমাত্রা ছিল à§§à§®.à§§ ডিগ্রি। স্বাভাবিকের থেকে ২ ডিগ্রি বেশী। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে  হয়েছে ৯৪ শতাংশ। 

জাওয়াদের প্রভাবে শুক্রবার উপকূলের দুই জেলা পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিকেলের পর সমুদ্রে উঁচু ঢেউ থাকবে এবং উপকূল এলাকায় ঘন্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে হাওয়া বইবে। 

ধেয়ে আসছে ‘জাওয়াদ’। আগামী শনিবার উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ এবং ওড়িশা উপকূলের মাঝামাঝি কোনও জায়গায় আছড়ে পড়তে পারে এই ঘূর্ণিঝড়। তার জেরে বাংলার উপকূলবর্তী জেলাগুলিতেও ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা। এমন পরিস্থিতিতে রাজ্যের উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি ইতিমধ্যেই যাঁরা মাছ ধরার জন্য সমুদ্রে গিয়েছেন তাঁদেরও ফিরতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে কৃষকদেরও ধান কেটে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।


blanck