হাঙ্গামা বিধ্বস্ত এলাকায় রাহুলের নেতৃত্বে কংগ্রেসের প্রতিনিধিদল

5th March 2020 ভারত
হাঙ্গামা বিধ্বস্ত এলাকায় রাহুলের নেতৃত্বে কংগ্রেসের প্রতিনিধিদল


প্রবল হট্টগোলের জেরে আজও ঠিক মতো চলল না সংসদ। সরকার আর বিরোধীদের বিবাদ বজায় রইল। তবে তারই মধ্যে ‘বিবাদ সে বিশ্বাস তক’ নামে কর সংক্রান্ত একটি বিল পাশ করিয়ে নিল সরকার। এদিকে, আজ নিয়ে পরপর তিনদিন। সংসদে আসছেন, কিন্তু সভায় উপস্থিত হচ্ছেন না নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ। এই পরিস্থিতিতেই দিল্লির সাম্প্রতিক হিংসার ইস্যুতে সোচ্চার বিরোধীদের যাবতীয় আপত্তি উড়িয়ে হট্টগোলের মধ্যেই একগুচ্ছ সংশোধনী সহ ঘড়ি ধরে মাত্র ছ’ মিনিটে ধ্বনিভোটে পাশ হয়ে গেল বিলটি। সামান্যমাত্র আলোচনা ছাড়াই বিল পাশে আপত্তি তুললেন সৌগত রায়, অধীররঞ্জন চৌধুরী। কিন্তু বিরোধীদের কোনওরকম সংশোধনী গ্রাহ্য না করেই বিলটি পাশ করিয়ে নিলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। সোমবার থেকে শুরু হওয়া বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় ভাগে আজই প্রথম সরকারি বিল পাশ হল।
অন্যদিকে, দিল্লির হিংসার ইস্যুতে সব কাজ মুলতুবি রেখে এখনই আলোচনা শুরু করার বিরোধীদের দাবিতে সরকার রাজি হচ্ছে না। জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, হোলির পরই আলোচনায় রাজি। তাই সরকারকে চাপে ফেলতে আচমকাই এদিন উত্তর-পূর্ব দিল্লির উপদ্রুত এলাকায় চলে গেল কংগ্রেস। রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধিদল এলাকা পরিদর্শনে যান। রাহুল গান্ধী এলাকায় গেলে সমস্যা হতে পারে বলে গোড়ায় আপত্তি জানায় দিল্লি পুলিস। কিন্তু রাহুলও জানিয়ে দেন, তিনি যাবেনই। এবং ব্যক্তিগত কোনও গাড়িতে নয়, দলের অন্য঩দের সঙ্গে ভাড়া করা ট্যুরিস্ট বাসেই হিংসার শিকার উত্তর-পূর্ব দিল্লির মানুষকে সমবেদনা জানাতে যাবেন। সেই মতো এদিন বিকালে রওনা হয় কংগ্রেস। ব্রিজপুরী নালার কাছে সংঘর্ষ বিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শন করে রাহুলের মন্তব্য, ‘হিংসায় কারও কোনও লাভ হয় না। কেবল ক্ষতি করে মানুষ আর ভারতমাতার।’ বলেন, হিংসা দেশে কেবল বিভাজন ডেকে আনে। একতার যে শক্তি ভারতকে গোটা বিশ্বের কাছে অন্য মর্যাদার আসনে বসায়, দিল্লির হিংসার ঘটনায় তাতে দাগ লেগেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দিল্লির হিংসার ঘটনায় বিরোধীদের বিক্ষোভের জেরে এদিন সভা বসতেই সারাদিনের জন্য রাজ্যসভা মুলতুবি করে দেন রাজ্যসভার চেয়ারম্যান তথা দেশের উপরাষ্ট্রপতি বেঙ্কাইয়া নাইডু। অন্যদিকে, লোকসভা বসলেও দফায় দফায় মুলতুবি হয়ে যায়। সরকার পক্ষের তরফে সংসদবিষয়ক মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশি বার বার বিরোধীদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন। জানান, হোলির পর লোকসভায় ১১ মার্চ এবং রাজ্যসভায় ১২ তারিখ দিল্লির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে সরকার রাজি। কিন্তু মন্ত্রীর সেই আশ্বাসে কান না দিয়ে অমিত শাহর ইস্তফা, প্রধানমন্ত্রীর জবাব চেয়ে ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ বজায় রাখে বিরোধীরা।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, আজ বুধবার হওয়া সত্ত্বেও লোকসভায় এলেন না প্রধানমন্ত্রী। সংসদ চলার সময় দেশে থাকলে প্রতি বুধবার লোকসভা এবং বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় আসেন প্রধানমন্ত্রী। এটাই দস্তুর। কিন্তু গত তিনদিনই সংসদে এলেও সভায় ঢুকলেন না প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আজ একবারের জন্যও লোকসভায় নিজের আসনে বসলেন না ঩স্পিকার ওম বিড়লা। যা বেনজির। গতকাল হট্টগোলের মধ্যে যেভাবে তাঁর দিকে কাগজ ছোঁড়া হয়েছে, নিষেধ অমান্য করেও ওয়েলে নেমে বিরোধীরা বিক্ষোভ চালিয়েছে, সেই ঘটনায় স্পিকার ক্ষুব্ধ। তাই পরোক্ষে সদস্যদের বার্তা দিতেই তিনি সংসদে এলেও সভায় এলেন না বলেই মনে করা হচ্ছে। স্পিকারের পরিবর্তে প্যানেল অব চেয়ারপার্সনের সদস্য হিসেবে প্রথম দু’দফায় কিরীট সোলাঙ্কি, পরে মীনাক্ষী লেখি সভা পরিচালন করেন। পেশ হয়, সংসদীয় কমিটির রিপোর্ট। পাশ হয় বিল।





Others News

মোদীর কৃষি আইন আজ বাতিলের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট

মোদীর কৃষি আইন আজ বাতিলের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট


 News; প্রায় দু’‌ মাস ধরে ধরে দিল্লি সীমান্তে অবস্থান বিক্ষোভ করছেন কৃষকরা। দাবি, নতুন তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহার করতে হবে। ইতিমধ্যে অন্তত ৪৫ জন কৃষক মারা গেছেন। হয় আত্মহত্যা করেছেন, নয়তো ঠান্ডায়। পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপের দিকে। এই অবস্থায় কৃষকদের পাশে দাঁড়াল সুপ্রিম কোর্ট। কেন্দ্রকে ধমক দিয়ে বলল, ‘‌হয় আপনারা কৃষি আইন স্থগিত রাখুন, নয়তো আমরা করছি। এখানে ইগোর কী রয়েছে?‌’‌
কৃষি আইন প্রত্যাহার করতে চেয়ে উচ্চ আদালতে পিটিশন দায়ের করেছিলেন আন্দোলনকারী কৃষকরা। 
• সেই শুনানিতেই এদিন প্রধান বিচারপতি এসএ বোবদে বললেন, ‘‌খারাপ কিছু ঘটলে তার জন্য দায়ী হব আমরা প্রত্যেকে। আমাদের হাতে কোনও ক্ষত বা রক্ত চাই না।’‌ 
• সুপ্রিম কোর্টে এও বলল, যে কৃষি আইন স্থগিত রাখার পরেও আন্দোলন চলতে পারে। কেন্দ্র সরকারকেই স্থির করতে হবে, যে বর্তমান বিক্ষোভস্থলেই সেটা চলবে, নাকি অন্য কোথাও সরানো হবে। 
• দিল্লি সীমান্তে ২৬ নভেম্বর থেকে অবস্থান করছেন বহু মহিলা এবং বৃদ্ধ। শীর্ষ আদালতের ক্ষোভ, ‘‌পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে। কৃষকরা আত্মহত্যা করছেন। এই ঠান্ডায় বৃদ্ধ আর মহিলারা কেন অবস্থানে বাধ্য হচ্ছেন?‌’‌
• ‘‌আদালত কৃষি আইন কার্যকর স্থগিত না করলে, আমরাই করব।’‌ কেন্দ্রকে কমিটি গড়ারও নির্দেশ দিয়েছে।
• অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে বেণুগোপালের পাল্টা যুক্তি, কোনও আইন কেন অসাংবিধানিক, আদালত তা না জানিয়ে আইন স্থগিত করতে পারে না। দুই বা তিনটি রাজ্যের কৃষকরা এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন, গোটা দেশ নয়। 


blanck