৩১ মার্চ পর্যন্ত রাজ্যে কোনও খেলা নয়। শুক্রবার নবান্ন সভাঘরে সব ক্রীড়া সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করে সেই সিদ্ধান্তই নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যেপাধ্যায়। বৈঠকে তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকার নির্দেশিকা জারি করে বলেছে, কোনও ধরনের জমায়েত করা যাবে না। করোনা ভাইরাস থেকে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। তবে দর্শকশূন্য মাঠে খেলার মানেই হয় না। আমাদের এখানে খেলা নিয়ে মানুষের আবেগ বেশি। তাছাড়া ক্রীড়া দপ্তর, পুলিস সহ দুই-তিনশো মানুষের জমায়েত হয়েই যাবে। বিপজ্জনক ঘটনাও ঘটে যেতেও পারে। তাই সাবধানতা অবলম্বন করার জন্য কিছুদিনের জন্য খেলা স্থগিত রাখলে কোনও অসুবিধা হবে না। ৩১ মার্চ পর্যন্ত সব ধরনের খেলা বন্ধ করা হোক। ৩০ মার্চ পরবর্তী বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
এদিন বিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে প্রথমে জানানো হয়েছিল, ১৮ মার্চ দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়ান ডে ম্যাচ হবে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য, ‘সৌরভের (সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়) উচিত ছিল, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা।’ তবে নবান্নে বৈঠক চলাকালীন খবর আসে, এই সিরিজের বাকি দু’টি ম্যাচই বাতিল করা হয়েছে। মুম্বইয়ে জরুরি বৈঠকের পর বিসিসিআইয়ের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়, উদ্ভূত পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই লখনউ (১৫ মার্চ) ও কলকাতার (১৮ মার্চ) দুটি ম্যাচ আপাতত বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট বোর্ড যুগ্মভাবে একদিনের সিরিজ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এআইএফএফের পক্ষে সুব্রত দত্ত বলেন, ‘আমাদের সভাপতি প্রফুল্ল প্যাটেল দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে ডার্বিসহ লিগের বাকি ম্যাচগুলি খেলার পরামর্শ দিয়েছেন।’ তা শুনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আপনি টেলিফোন করে ওঁকে বলুন, আমাদের এখানে ফুটবলের আবেগ বেশি। এটা করা যায় না। সকলের স্বার্থে তা মেনে নেওয়া উচিত।’ তবে রবিবারের ডার্বি নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। ফেডারেশন জানিয়েছে, দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে আই লিগের বাকি ম্যাচগুলি সম্পন্ন করতে চায় তারা। কিন্তু মোহন বাগান-ইস্ট বেঙ্গল সমর্থকদের আবেগের কথা ভেবে মরশুমের শেষ ডার্বি পিছিয়ে দেওয়ার দাবি জানায় লাল-হলুদ শিবির। এক্ষেত্রে তারা পাশে পেয়েছে রাজ্য সরকারকেও। এই চাপের মুখে ফেডারেশন এখন কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটাই দেখার বিষয়।
তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ নিয়ে রাজ্য সরকার কোনও সিদ্ধান্ত না নিলেও তীব্র উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। উচ্চ মাধ্যমিক সহ বিভিন্ন পরীক্ষা চলছে। সাউথ পয়েন্ট স্কুল ও অ্যামিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা কার্যত বন্ধ। বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাসও ৩১ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে। স্কুল চলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, স্কুল নিয়ে আমি চিন্তিত। কিন্তু পরীক্ষা চলায় বন্ধ করতে পারছি না। বাচ্চাদের দিকে নজর রাখা উচিত। একবার ভাবছি বন্ধ করে দেব। আবার ভাবছি, পরীক্ষা রয়েছে কী হবে? সব মিলিয়ে রাজ্য সরকার এই বিষয়ে যে উদ্বিগ্ন তা মুখ্যমন্ত্রীর কথাতেই পরিষ্কার।