করোনা এবার কলকাতায় ব্রিটেন ফেরত যুবকের দেহে

18th March 2020 পশ্চিমবঙ্গ
করোনা এবার কলকাতায় ব্রিটেন ফেরত যুবকের দেহে


রাজ্যে প্রথম করোনা আক্রান্তের খেঁাজ মিলল খোদ কলকাতায়। মঙ্গলবার বেলেঘাটার আইডি হাসপাতালে তঁার নমুনা পরীক্ষায় করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে। এই তরুণ রাজ্যের এক আমলার ছেলে এবং বাইপাস লাগোয়া পঞ্চসায়র থানা এলাকার এক অভিজাত আবাসনের বাসিন্দা। ১৮ বছর বয়সি এই তরুণ রবিবার ব্রিটেন থেকে ফিরেছেন। সেখানেই এক নামজাদা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন তিনি। সোমবার ওই তরুণ বাড়িতেই ছিলেন। এমনকী পারিবারিক সূত্রে নবান্নে এক শীর্ষ আধিকারিকের সঙ্গে দেখাও করতে যান। তাতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ওই আধিকারিক। তিনি অবিলম্বে ওই তরুণকে বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন। তারপরও তঁাকে আইডির বদলে এমআর বাঙুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। শরীরে করোনার উপসর্গ দেখে চিকিৎসকরাও তঁাকে আইডি হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। অবশেষে মঙ্গলবার সকালে ওই তরুণকে আইডিতে নিয়ে আসা হয়। আর রাতে রিপোর্ট পজিটিভ মেলে।
এরপরই নড়েচড়ে বসে স্বাস্থ্যদপ্তর। সঙ্গে সঙ্গে তঁার মা এবং গাড়ির চালককে আইসোলেশন ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়া হয়। রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব বিবেক কুমার জানিয়েছেন, আবাসন, নবান্ন, বাঙুর হাসপাতাল, বিমানের সহযাত্রী সহ সর্বত্র কোন কোন ব্যক্তির সংস্পর্শে তিনি এসেছেন, তঁাদের খেঁাজ শুরু করেছে রাজ্য। কন্ট্র্যাক্ট ট্রেসিংয়ের মাধ্যমে এঁদের প্রত্যেককে হাসপাতাল, অথবা বাড়িতে নজররে রাখা হবে। রাতেই নদীয়ার জেলাশাসককে জরুরি ভিত্তিতে নির্দেশ দিয়ে ওই তরুণের বাবাকে কলকাতায় নিয়ে আসার ব্যবস্থা করেছে সরকার। ব্রিটেন থেকে ফেরার পরই কেন ওই তরুণকে সরাসরি আইডি হাসপাতালে ভর্তি করা গেল না, তা নিয়ে খেঁাজখবর শুরু করেছে সরকার। দপ্তর সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে করোনা সন্দেহে নজরদারিতে রয়েছেন ১২ হাজার ২২৬ জন। ৭০ জনের নমুনা কোভিড-১৯ পরীক্ষার জন্য এনআইবি পুনে এবং নাইসেডে পাঠানো হয়েছিল। তরুণ ছাড়া বাকিদের রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে।
এরইমধ্যে এদিন মুম্বইতে করোনা আক্রান্ত আরও এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৪ বছর। ঘাটকোপারের ওই বাসিন্দা মার্চ মাসের শুরুতেই দুবাই থেকে ফিরেছিলেন। বৃহন্মুম্বই পুরসভার কমিশনারের অবশ্য দাবি, শুধুমাত্র করোনা সংক্রমণের কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে, একথা বলা ভুল হবে।
এই নিয়ে করোনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে হল তিন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, গরমে করোনা ভাইরাস দুর্বল অথবা বিনষ্ট হয়, এরকম কোনও প্রাকৃতিক প্রতিরোধী প্রবণতা পাওয়া যায়নি। আগামী দিনগুলিতেও তাই করোনা প্রকোপ অব্যাহত থাকতে পারে বলেই আশঙ্কা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার। এই মুহূর্তে ভারতে করোনা ভাইরাস সংক্রমণে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৩৮। হরিয়ানা ও পুদুচেরিতে প্রথম করোনা আক্রান্তের সন্ধান মিলেছে। মহারাষ্ট্রে আক্রান্তের সংখ্যা ৪০ ছাড়িয়ে গিয়েছে। আজ ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চের ডিরেক্টর জেনারেল বলেছেন, ভারত এখন স্টেজ টু তে দাঁ‌ড়িয়ে রয়েছে। আশঙ্কার কারণ এরপরেই হল স্টেজ থ্রি। সেটিকে বলা হচ্ছে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন। তখন কিন্তু সামাজিক সংক্রমণের সম্ভাবনা প্রবলভাবে বেড়ে যাবে।
পাবলিক ট্রান্সপোর্ট বন্ধ করার সিদ্ধান্ত এখনও না হলেও, স্বাস্থ্যমন্ত্রক বলেছে, যতটা সম্ভব বাস, ট্রেন, মেট্রো এড়িয়ে যাওয়াই কাম্য। একান্ত প্রয়োজন না হলে বাইরে বেরনো উচিত নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিবৃতি দিয়ে বলেছে, প্রত্যেক সন্দেহভাজনেরই করোনা পরীক্ষা করতে হবে। সবথেকে উদ্বেগজনক সংবাদ এসেছে ইরান থেকে। লাদাখ থেকে ইরানে যাওয়া ২৫০ জন ভারতীয়ের শরীরে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে বলে আজ বিদেশমন্ত্রককে জানিয়েছে ইরান। আজ রাজ্যসভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাঃ হর্ষবর্ধন বলেছেন, ভারতে করোনা উপসর্গ থাকা ৫৪ হাজার মানুষকে সন্দেহভাজন হিসেবে নজরবন্দি করে রাখা হয়েছে।
করোনা উপসর্গ বৃদ্ধি পেতেই কেন্দ্র স্থির করেছে এবার থেকে বেসরকারি রোগনির্ণয় কেন্দ্রগুলিকে করোনা পরীক্ষার অনুমোদন দেওয়া হবে। এই মুহূর্তে আরও ৫০টি পরীক্ষা কেন্দ্র বাড়ানো হবে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের যুগ্ম সচিব লব আগরওয়াল বলেছেন, মৃতদেহ সৎকারের সময় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। যাতে সংক্রমণ না ছড়ায়।





Others News

আবার আসছে ঝড় জাওয়াদ

আবার আসছে ঝড় জাওয়াদ


News: জাওয়াদ আসার আগেই পূর্বাভাস অনুযায়ী কলকাতায় বাড়ল দিন ও রাতের তাপমাত্রা। বৃহস্পতিবার দিনের তাপমাত্রা ছিল ২৯.৭ ডিগ্রি যা স্বাভাবিকের তুলনায় ২ ডিগ্রি বেশী। বৃহস্পতিবার রাতের তাপমাত্রা ছিল ১৮.১ ডিগ্রি। স্বাভাবিকের থেকে ২ ডিগ্রি বেশী। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে  হয়েছে ৯৪ শতাংশ। 

জাওয়াদের প্রভাবে শুক্রবার উপকূলের দুই জেলা পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিকেলের পর সমুদ্রে উঁচু ঢেউ থাকবে এবং উপকূল এলাকায় ঘন্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে হাওয়া বইবে। 

ধেয়ে আসছে ‘জাওয়াদ’। আগামী শনিবার উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ এবং ওড়িশা উপকূলের মাঝামাঝি কোনও জায়গায় আছড়ে পড়তে পারে এই ঘূর্ণিঝড়। তার জেরে বাংলার উপকূলবর্তী জেলাগুলিতেও ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা। এমন পরিস্থিতিতে রাজ্যের উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি ইতিমধ্যেই যাঁরা মাছ ধরার জন্য সমুদ্রে গিয়েছেন তাঁদেরও ফিরতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে কৃষকদেরও ধান কেটে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।


blanck