পশ্চিম মেদিনীপুরে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা- সংক্রমণের সন্দেহভাজন।

19th March 2020 পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর
পশ্চিম মেদিনীপুরে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা- সংক্রমণের সন্দেহভাজন।


TARIF TV: রাজ্য থেকে বিদেশ ফেরতদের নতুন এক তালিকা এসে পৌঁছেছে জেলায়। সেই সূত্রে ওই তালিকায় নাম থাকা ১৯ জনের উপরে নতুন করে নজরদারি শুরু হয়েছে বলে প্রশাসনের এক সূত্রে খবর। সকলেই ‘গৃহ নজরদারি’তে রয়েছেন। তাঁদের শারীরিক পরিস্থিতির উপরেও নজর রেখেছে স্বাস্থ্য দফতরের দল। 

জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক গিরীশচন্দ্র বেরা মানছেন, ‘‘নতুন করে কয়েকজনের উপরে নজরদারি শুরু হয়েছে। সকলেই বিদেশ থেকে ফিরেছেন। তালিকায় নাম থাকা সকলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।’’ জেলাশাসক রশ্মি কমল বলেন, ‘‘জেলার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে।’’

রশাসনের এক সূত্রে খবর, করোনা- সংক্রমণের সন্দেহে পশ্চিম মেদিনীপুরে এখনও পর্যন্ত নজরদারি চলেছে ৪৮ জনের উপরে। এরমধ্যে ১৬ জন ২৮ দিন ‘গৃহে নজরদারি’তে থেকেছেন। তাঁদের আর ওই সংক্রমণের আশঙ্কা নেই। বাকি ৩২ জন এখনও নজরদারিতে রয়েছেন। এরমধ্যে মেদিনীপুর মেডিক্যালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে রয়েছেন ১ জন। তাঁর জ্বর রয়েছে। সৌদি আরব থেকে ফিরেছেন এই যুবক।  বাকি ৩১ জন ‘গৃহ নজরদারি’তে রয়েছেন। এর মধ্যেই রয়েছেন নতুন করে আসা তালিকায় নাম থাকা ওই ১৯ জন। 

প্রশাসনের এক সূত্রে খবর, তালিকায় ওই ১৯ জনের মধ্যে চিন থেকে ফিরেছেন ২ জন, জাপান থেকে ১ জন, তাইল্যান্ড থেকে ১ জন, জার্মানি থেকে ২ জন, সিঙ্গাপুর থেকে ১ জন, আমেরিকা থেকে ২ জন, দুবাই থেকে ২ জন, বাংলাদেশ থেকে ৫ জন এবং মালয়েশিয়া থেকে ১ জন। তাঁদের মধ্যে ৯ জন মেদিনীপুরের বাসিন্দা। ৭ জন খড়্গপুরের বাসিন্দা। ২ জন দাসপুরের বাসিন্দা এবং ১ জন ডেবরার বাসিন্দা। জেলা প্রশাসনের এক সূত্রের দাবি, পশ্চিম মেদিনীপুরে করোনা সংক্রমিতের সংখ্যা এখনও শূন্যই রয়েছে। 

জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকও বলেন, ‘‘সন্দেহভাজন কয়েকজনের লালারস পরীক্ষা হয়েছে। সকলেরই রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে।’’ তবে যে ভাবে জেলায় সন্দেহভাজনের সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ছে তা অবশ্য উদ্বেগের ঠেকছে অনেকের কাছেই। 

সংক্রমণ এড়াতে বিদেশ থেকে দেশে ফেরা শুরু হয়েছে। সেই সূত্রেই জেলায় সন্দেহভাজন বাড়ছে।





Others News

ঘাটালে বন্যার জলে নেমে দেখলেন মমতা বন্যা পরিস্থিতি

ঘাটালে বন্যার জলে নেমে দেখলেন মমতা বন্যা পরিস্থিতি


 News: একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত বাংলার প্রতি কেন্দ্র উদাসীন। ভয়াবহ প্লাবনের কবলে পড়া এই রাজ্যের বন্যা নিয়ন্ত্রণের বকেয়া প্রকল্পগুলি নিয়েও ঠিক একইভাবে নীরব হয়ে রয়েছে তারা। ৩৮ বছরের পুরনো ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান এবং সুন্দরবন ও দীঘা মাস্টার প্ল্যান আদায়ে এবার আন্দোলনের পথকেই বেছে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দাবি আদায়ে এমপি, এমএলএ এবং মন্ত্রীদের সম্মিলিত টিমকে দিল্লিতে দরবার করতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। প্রয়োজনে ধর্না সহ গণতান্ত্রিক সমস্ত রাস্তাকে অবলম্বন করেই যে বাংলার দাবি আদায় করা হবে, সে ইঙ্গিতও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বন্যাবিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শনে মঙ্গলবার ঘাটালে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। জলে নেমে যেমন খতিয়ে দেখেছেন পরিস্থিতি, তেমনই ত্রাণ শিবির পরিদর্শন করে দুর্গতদের মধ্যে জরুরি সামগ্রী বিলিও করেছেন। 
ঝাড়গ্রাম থেকে আকাশপথে এদিন বেলা ১২টা নাগাদ ঘাটালে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। আসার সময় হেলিকপ্টার থেকেই বন্যাদুর্গত এলাকা জরিপ করেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘অতিবর্ষণ তো হচ্ছেই, তার সঙ্গে জলাধারগুলি থেকে নাগাড়ে জল ছাড়ায় ভেসে যাচ্ছে সব এলাকা। পরিকল্পিত বন্যা এটা। অথচ সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান এবং সুন্দরবন ও দীঘা মাস্টার প্ল্যান নিয়ে কেন্দ্রের কাছে দরবার করার পরও অনুমোদন মিলছে না। পাওয়া যাচ্ছে না সাহায্য। আমি সব রিপোর্ট নিলাম। রা‌জ্য সরকার তার সাধ্যমতো কাজ করবে সাধারণের স্বার্থে।’ স্পষ্ট উষ্মা মুখ্যমন্ত্রীর গলায়—‘সবাইকে সরব হতে হবে। না হলে কেউ বাঁচব না। রাজ্যের দুই মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র ও মানস ভুঁইঞার নেতৃত্বে দেব (ঘাটালের সাংসদ দীপক অধিকারী), জুন (মেদিনীপুরের বিধায়ক) সহ আরও এমপি, এমএলএরা দিল্লি যাবে। দাবি আদায়ে প্রয়োজনে ধর্নায় বসতে হবে। ’ 


blanck